সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের চিঠি হাতে পান। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য মো. হানিফ।
মুশফিকুর রহমান বিশ্বব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার চূড়ান্ত মনোনয়নের খবরে কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঞা ও মুশফিকুর রহমান—এ দুজনকে পৃথক সময়ে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা, বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহমানকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে এ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর ২৭ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহাম্মেদ ভূঞাকে ‘সংযুক্তি-২’ উল্লেখপূর্বক আরেকটি মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এর ফলে উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে চূড়ান্ত মনোনয়নের দাবিতে পৃথক কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
এদিকে গত ৯ জানুয়ারি মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। একই আসনের গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী জহিরুল হক চৌধুরী। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন আপিলটি খারিজ করে মুশফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বহাল রাখে। ওই রাতেই তিনি বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের চিঠি গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার বলেন, মুশফিকুর রহমানকে চূড়ান্ত প্রার্থী উল্লেখ করে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মুশফিকুর রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে আমরা আশাবাদী। এ জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কসবা-আখাউড়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।


