ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যে কারণে দীন ইসলামকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
নিহত দীন ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দীন ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ২০-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদীর ওপারে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ নদীর পাড়ে গিয়ে জানতে পারে দীন ইসলামের বর্তমান অবস্থান কুমিল্লার বাঙ্গরা থানায়। পরে বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের সফিকুর ইসলামের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেইজ পরিচালনা করতেন। মাদকসেবন, মাদক কারবার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভিডিও তৈরি করে তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।

নিহতের পিতা সফিকুল ইসলাম ও মা পারুলী বেগমের দাবি করেছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীন ইসলাম হত্যার সাথে তিনি জড়িত নয়। ষড়যন্ত্র করে একটি চক্র তাকে জড়িয়ে মিথ্যা এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে।

কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত।