বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের শ্রমিকদের মারধর করে আহত করার ঘটনায় প্রায় ১০ ঘণ্টা পর চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে আজ ভোর ৬টা থেকে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। বিকেল ৩টা থেকে আবার চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে চাঁদপুর থেকে দেশের অন্যান্য রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বাস চলাচল শুরু করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়।
এর আগে বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বলাখাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বাস থামানোর দাবিতে সড়কে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। তারা চাঁদপুর-কুমিল্লার মধ্যে চলাচলকারী দুটি পরিবহন—বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাস বলাখালে আটকে রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে থামানো বাসের শ্রমিকদের মারধর এবং কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালায় স্থানীয় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে, এ ঘটনার পর দুটি পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। যার বাস্তব প্রতিফলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে। পরিবহনগুলো বন্ধ থাকায় এ রুটের সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দুটি পরিবহনের মালিকপক্ষ, পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের আহ্বানে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের মারধর করে আহত করার ঘটনায় ওই এলাকার লোকজন দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসাসহায়তা দেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হবে। আর বলাখালে বাস থামানোর বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে ঈদের পর আরেকটি সভা করা হবে এবং তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


