ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাবেক এমপির ছেলের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতাকে মারধরের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:০২ এএম
আঘাতের চিহ্ন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের ছেলে রুবাইত ইবনে হারুন রাফির বিরুদ্ধে এক জামায়াত নেতাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা রাতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

জামায়াতের অভিযোগ, রাত সাড়ে ৭টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চলছিল। এ সময় বিপরীত দিকে থেকে বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের গাড়ি আসছিল।

মিছিলটি সুশৃঙ্খলভাবে অতিক্রম করার শেষ পর্যায়ে হঠাৎই সাবেক এমপির ছেলে রুবাইত ইবনে হারুন রাফি গাড়ি থেকে নেমে ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আজিজুল হক নুরের কলার ধরে মারধর ও হত্যাচেষ্টা চালান। এ সময় নূরের গলা ধরে তাকে শূন্যে তুলে ধরা হয়।

ভুক্তভোগী আজিজুল হক নুর জানান, ‘গাড়ির যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য আমি গাড়ির সামনে হাত প্রসারিত করে মিছিলটি পার করাচ্ছিলাম। হঠাৎই এমপি পুত্র নেমে আমার গলা ধরে শূন্যে তুলে ধরে। এ সময় আমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। আমি সাংবাদিকদের আমার গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখাই।’

জেলা জামায়াতের আমির আবু জার গিফারী জানান, ‘আমাদের নির্বাচনি মিছিল চলছিল। হারুন ভাই সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। মিছিলটি গাড়ি ক্রস করার শেষ পর্যায়ে রাফি নেমে নূরের গলা ধরে শূন্যে তুলে ধরে।

অন্তত ১০-১৫ সেকেন্ড ধরে রাখার কারণে নূরের প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা ছিল। স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে। এরপর হারুন ও তার ছেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।’

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি যাওয়ার সময় জামায়াতের একটি মিছিল পার হচ্ছিল। মিছিলে থাকা শিশুরা গাড়িতে টোকা দিচ্ছিল। তখন রাফি নেমে তাদের বকাঝকা করেন। এরচেয়ে বেশি কিছু হয়নি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নুরে আলম জানান, ‘এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আজিজুল হক নুরকে মারধরের প্রতিবাদে কয়েকটি স্থানে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দেন জামায়াত নেতারা।