সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই ভাই, এক বোনসহ মোট ১১৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ মামলাগুলো দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, দিনমজুর, কৃষক, খেলোয়াড়, সেলুনকর্মী ও অটোরিকশাচালকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তাদের ভুয়া ব্যবসায়ী বানানো হয়।
এরপর এসব নাম ব্যবহার করে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং ঋণের নামে ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়।
মামলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি জানান, চট্টগ্রামের চকবাজার, পাহাড়তলী ও ইপিজেড শাখায় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর নামে চলতি হিসাব খোলা হয়েছিল। এই আটটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম হলো:
-
এশিয়া এন্টারপ্রাইজ
-
মুন এন্টারপ্রাইজ
-
ইসলাম এন্টারপ্রাইজ
-
সান-সাইন এন্টারপ্রাইজ
-
আলম এন্টারপ্রাইজ
-
জুপিটার এন্টারপ্রাইজ
-
নাজিম অ্যান্ড সন্স
-
আল-রাজি এন্টারপ্রাইজ
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০০২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সাধারণ মানুষের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে:
-
দিনমজুর নুরুল ইসলামের নামে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা
-
স্থানীয় খেলোয়াড় দিদারুল আলমের নামে ৪ কোটি টাকা
-
দিনমজুর মইন উদ্দিনের নামে ৭ কোটি টাকা
-
অটোরিকশাচালক আমির হামজার নামে ৮ কোটি টাকা
-
সেলুনকর্মী রাজধন কর্মকারের নামে ৩ কোটি টাকা
-
দিনমজুর নাজিমের নামে ৯ কোটি টাকা
-
জসিম উদ্দিনের নামে ৯ কোটি টাকা
এই সব ঋণের পরিমাণ মিলিয়ে মোট ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে।
মামলার আসামির মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ছোট ভাই ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী সবগুলো মামলায় নাম আছে। এ ছাড়া সাতটি মামলায় আরও একজন ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরী, তিনটি মামলায় বোন রোকসানা জামান চৌধুরী এবং সাতটি মামলায় ইউসিবির সাবেক পরিচালক বশির আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। ইউসিবির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও মামলায় যুক্ত আছেন।
গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু তার পরও তারা বিদেশে পালিয়ে যান। দুদকের দাবি, সাইফুজ্জামানের অন্তত নয়টি দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি বাড়ি
-
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ২২৮টি বাড়ি
-
যুক্তরাষ্ট্রে ১০টি বাড়ি
এ ছাড়া তার আরও সম্পদ আছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায়। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন