চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভায় গভীর রাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এক সাংবাদিকের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৩ জুন) বাঁশখালী পৌরসভা ভবনের দক্ষিণ পাশে ও জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদ্রাসার উত্তর পাশে (আনোয়ারা -বাঁশখালী) পিএবি প্রধান সড়ক সংলগ্ন রাস্তার সাথে লাগানো পশ্চিম পাশে গভীর রাতে সন্ত্রাসী দিয়ে জোর পূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে সাংবাদিক মিজান বিন তাহেরের পৈত্রিক জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শহিদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। সে বাঁশখালী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে বাহার উল্লাহ পাড়া এলাকার মৃত ফয়জুল্লার পুত্র।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জমিদার মরহুম শেখ ওয়াজেদ আলীর খাস দখলীয় ১০ শতক বা ৫ গন্ডা জমির মালিক। বিগত ১৯৫১ সালে ১০১৭ দলিল মূলে ৯৯১ নং খতিয়ানের আর.এস ৪৯২২ দাগে ও বি.এস ৭৭৮৪ দাগে উক্ত ১০ শতক জমি জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহঃ) সাহেবের নিকট বিক্রিয় করে দেন। উক্ত জায়গাটি যুগ যুগ ধরে মাওলানা মোহাম্মদ আলীর পুত্র সন্তানদের দখলে থেকে সহকারী কমিশনার ভূমি আদেশ ও পৌরসভা অনুমোদন নিয়ে দক্ষিণ পাশে ২ টি দোকান নির্মাণ করেছে সাংবাদিক মিজান বিন তাহের গং। শনিবার গভীর রাতে ওই জমি নিজের দাবি করে ভূয়া অজুহাত দেখিয়ে শহিদুল্লাহ ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে জমিটি দখল চেষ্টার পায়তারা চালিয়ে আসছে। এ সময় মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নাতনী বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও সাংবাদিক মু. মিজান বিন তাহেরের পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে বিভিন্ন রকম হত্যার হুমকি প্রদান করে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিজান বিন তাহের জানান, এই জায়গা আমার দাদা ১৯৫১ ইংরেজিতে ক্রয় করে দীর্ঘ দিন যাবৎ ভোগ দখলে থেকে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া প্রদান করে আসছি। শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ সন্ত্রাসীদের দিয়ে জায়গা টি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উক্ত জায়গায় আমার নামে মামলার রায় এবং দালান নির্মাণের জন্য পৌরসভার অনুমোদন রয়েছে।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, জমি দখলের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কাজ বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, গভীর রাতে জমি দখল করার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয় টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত পূর্বক কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশংকা করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় ।


