ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর। ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় বিচারপ্রার্থী মা ও মেয়েকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ইউএনওর মাধ্যমে উল্টো ভ্রাম্যমাণ আদালতে মা ও মেয়েকে এক মাসের সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ‘টক অব দ্য পেকুয়া’য় পরিণত হয়। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমালোচনার ঝড় ওঠে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ওসি ও এসআই পল্লবের বিচার দাবি করছে অনেকেই।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুল তথ্যের অভিযোগে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়। আটক কলেজ শিক্ষার্থীর নাম জুবাইদা জান্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ও স্ত্রী।

জানা যায়, ভুক্তভোগী জুবাইদার পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান। মামলাটি পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের তদন্তাধীন। মামলার বাদী জুবাইদাকে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেন এসআই পল্লব। এতে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং এসআই পল্লব থেকে দেওয়া টাকা ফেরত চান। এতেই বাধে হট্টগোল। জুবাইদার ও তার মাকে বেধড়ক মারধর করতে করতে থানার গেটে নিয়ে আসা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দিলে তিনি নিজেই থানায় এসে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা ও তার মাকে একমাসের সাজা দেন।

এ ঘটনায় থানায় আসা সেবাপ্রার্থী লোকজন ব্যাপক সমালোচনা করে বলেন, থানায় আসা সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে একজন পুলিশ হয়ে মহিলার গায়ে হাত দিল। আর ইউএনও এসে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনে সাজা দিয়ে দিল—এটি সত্যিই অমানবিক।

প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগম (৬০) বলেন, আমি জুবাইদা ও তার মায়ের সাথে পেকুয়া থানায় মামলার তদন্তের বিষয়ে যাই। থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের সাথে তারা মা-মেয়ে মামলার বিষয়ে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। এতে আরও শুনতে পাই, মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে এসআই পল্লব ২০ হাজার টাকা নেন বাদী জুবাইদার কাছ থেকে। কিন্তু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না দিয়ে উল্টো বিপক্ষে দেন এসআই পল্লব। যার কারণে টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগী জুবাইদা। এতে হঠাৎ চড়াও হন এসআই পল্লব। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন মা-মেয়েকে। পরে মহিলা পুলিশ এসে তাদের মারতে মারতে থানার গেটে নিয়ে আসে। থানায় থাকা সকল সেবাপ্রার্থীকে বের করে দেওয়া হয়। তারা মা-মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। পরে ওসি এসে ইউএনওকে খবর দিলে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনেই এক মাস করে মা-মেয়েকে সাজা দিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানায় গেলে তারা জুবাইদা ও তার মায়ের খবর না দিয়ে গড়িমসি করেন। ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও তার খালা আমেনা মুন্নী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিরুদ্ধে দিয়ে আবার টাকা ফেরত চাইলে অমানবিক নির্যাতন করে। ইউএনওকে ডেকে এনে এক মাসের সাজা দেবে এটা কোন ধরনের আইন আমরা জানতে চাই। আমি ও আমার পরিবার এই অমানবিকতার সঠিক বিচার চাই।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহাবুব বলেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং একজন পুলিশ অফিসারের সাথেও হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত করে সাজা দিয়েছি। এসআই পল্লবের সাথে ঘুষ লেনদেনের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এটি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমি খারাপ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা দিয়েছি।

পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলমের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের সাথে একটি ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে এ ঘটনার সুত্রপাত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এসআই পল্লবকে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।