কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি দিনদুপুরে সাংবাদিকের মালিকানাধীন একটি বিকাশ দোকান থেকে ৬০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারুক আহাম্মদ খোকন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ মো. কাউসার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফারুক আহাম্মদ খোকন উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাড়িসর্দার বাজারে ‘মিজান টেলিকম’ নামে একটি বিকাশ দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশের পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে দোকানে আসে। তারা মোটরসাইকেলটি কিছুটা দূরে রেখে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দুটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলে।
তারা বিকাশ পার্সোনাল নম্বর ০১৮৮২৫৯৬৬৫৩-এ ১০ হাজার টাকা এবং বিকাশ এজেন্ট নম্বর ০১৬২৬০৫১০৮২-এ ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে নির্দেশ দেয়। পুলিশের পরিচয় দেখিয়ে সন্দেহ না করে ফারুক আহাম্মদ খোকন তাদের কথামতো মোট ৬০ হাজার টাকা পাঠান।
টাকা পাঠানোর পর পুলিশের পোশাকধারী ওই ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনে কথা বলার ভান করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
খোকন দোকান থেকে বের হয়ে চিৎকার করলেও তারা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে চৌদ্দগ্রাম সদরের দিকে পালিয়ে যায়। পরে দেখা যায়, তাদের দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।
পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। এরপর ৯৯৯-এ কল করলে ভুক্তভোগীকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঘোলপাশা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের সুমন হোসেন এবং পাশের দোকানদার মো. শাহজাহান জানান, প্রকাশ্যে দিনের বেলায় পুলিশের পোশাক পরে এসে প্রতারকরা বিকাশের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগেই প্রতারকচক্র এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আবু মাহমুদ মো. কাউসার বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।


