ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বহু নারীর সঙ্গ পেতে প্রাচীন বৃদ্ধ রাজারা যা খেতেন

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি এ আই দিয়ে তৈরি।

মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক শক্তি কমতে থাকে। দেখা দেয় ক্লান্তি ও দুর্বলতা। তবে ইতিহাসে রাজা-বাদশাহদের নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, অনেক রাজা দীর্ঘদিন যৌবন ও কর্মশক্তি ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক উপাদান ব্যবহার করতেন। তাদের বৈদ্যরা এসব উপাদান সংগ্রহ করে বিশেষ উপায়ে সেবনের পরামর্শ দিতেন।

রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য নিচে এমনই কিছু প্রচলিত ভেষজ ও সেগুলোর ব্যবহারের উপায় তুলে ধরা হলো-

পুনর্নবা : পুনর্নবাকে অনেকে গদহপূরাণও বলে থাকেন। এটি ব্যথা, সর্দি-কাশির জন্য ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার এই পাতাকে অ্যান্টি-এজিং ও অনাক্রম্যতা দূর করার জন্যও ব্যবহার করেন। আধা চা-চামচ পুনর্নবার গুঁড়া এক চা-চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে রাজারা খেতেন।

সাদা মুসলি : সাদা মুসলি থেকে তৈরি ওষুধ বন্ধ্যাত্ব দূর করতে পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত হতো বলে প্রচলিত রয়েছে। এক চা-চামচ মুসলির গুঁড়ার সঙ্গে দুধ ও মিছরি মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে রাজারা খেতেন। এ ছাড়া ধূমপানের কারণে সৃষ্ট মানসিক বিরক্তি দূর করতেও এটি ব্যবহার করা হতো।

আয়ুর্বেদিক উপায় : বৈদ্য ও ফকিররা মহারাজাদের বিভিন্ন ভেষজ ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। এসব উপাদানের মধ্যে সোনা, রূপা, কেশর যেমন ছিল, তেমনি এমন অনেক জড়িবুটিও ছিল, যেগুলো সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা।

শতাবর : বন্ধ্যাত্ব, ধূমপান, মদ্যপানসহ বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট ইরেকটাইল সমস্যা ও স্পার্মের সমস্যা দূর করতে শতাবর ব্যবহার করা হতো। এক চা-চামচ মিছরি, গরুর ঘি এবং আধা চা-চামচ শতাবরের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পর দুধ পান করতেন রাজারা।

কেশর : শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিকমতো না চললে বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হতো। এ কারণে কেশর ব্যবহার করা হতো। এক চিমটি কেশর কুসুম গরম দুধের সঙ্গে রাতে সেবন করতেন তারা।

শিলাজিৎ : ইমিউনিটি বৃদ্ধি, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা, ইরেকটাইল ডিসফাংশন, শিরায় রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং শুক্রাণুজনিত বিভিন্ন সমস্যার জন্য শিলাজিৎ ব্যবহার করা হতো। চালের দানার সমান বা এক চিমটি শিলাজিতের গুঁড়া গরুর ঘি অথবা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হতো।

আমলকি : প্রস্রাবের অসুবিধা, শুক্রাণু বৃদ্ধি এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মতো সমস্যায় আমলকি ব্যবহার করা হতো। এক চা-চামচ আমলকির গুঁড়া ও এক চা-চামচ মিছরি পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পর কুসুম গরম দুধ পান করতেন রাজারা।

অশ্বগন্ধা : শুক্রাণুর ঘাটতি, ইমিউনিটি বৃদ্ধি ও দুর্বলতা দূর করার জন্য অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা হতো। রাতে শোয়ার আগে কুসুম গরম দুধের সঙ্গে এক চা-চামচ অশ্বগন্ধার গুঁড়া মিশিয়ে খেতেন।

তেঁতুলের দানা : শুক্রাণু বৃদ্ধি এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশন, অর্থাৎ শিরায় রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে তেঁতুলের দানা ব্যবহার করা হতো বলে প্রচলিত রয়েছে। তেঁতুলের দানা গুঁড়া করে সকালে ও বিকেলে মিছরি অথবা গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করতেন।