ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

যেসব ব্যথাকে কখনোই অবহেলা করবেন না

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
প্রতীকী ছবি

দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের ব্যথা আমাদের অনেকেরই হয়। বেশিরভাগ ব্যথা সাময়িক হলেও কিছু ব্যথা গুরুতর রোগের সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিচে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা অনুভূত হলে তা মস্তিষ্কের রক্তনালির গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে, কারণ এটি স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ঠান্ডা বা গরম খাবারে দাঁতে ব্যথা

ঠান্ডা বা গরম কিছু খাওয়ার সময় দাঁতে তীব্র ব্যথা বা শিরশির অনুভূত হলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়, ক্যাভিটি বা অন্য কোনো দাঁতের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। দেরি না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হাত বা কবজিতে ব্যথা ও অবশভাব

আঙুল, হাতের তালু বা কবজিতে ব্যথা, ঝিনঝিন ভাব কিংবা অবশ অনুভূতি হলে তা কার্পাল টানেল সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে হাতের কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বুকে ব্যথা

বুকে চাপধরা ব্যথা যদি কাঁধ, বাহু, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এটি হৃদ্‌রোগ বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের ব্যথা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

পিঠের মাঝামাঝি ব্যথার সঙ্গে জ্বর

পিঠের মাঝামাঝি অংশে ব্যথার পাশাপাশি জ্বর, কাঁপুনি বা অসুস্থতা থাকলে কিডনির সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

কোমর থেকে পায়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা

কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা সায়াটিকার লক্ষণ হতে পারে। যদি এর সঙ্গে প্রস্রাব বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন একটি বিরল স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

তলপেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা

তলপেটের ডান পাশে ব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি বমি ভাব বা বমি থাকলে অ্যাপেনডিসাইটিস হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ দেরি হলে অ্যাপেনডিক্স ফেটে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পায়ে ব্যথা, ফোলা ও লালচে ভাব

পায়ে খিল ধরা সাধারণ ঘটনা হলেও যদি এর সঙ্গে ফোলা, লালচে ভাব বা প্রদাহ দেখা দেয়, তাহলে রক্ত জমাট বাঁধার (ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস) সম্ভাবনা থাকতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সতর্কতা

উপরের লক্ষণগুলো থাকলেই যে নির্দিষ্ট রোগ হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত নয়। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।