এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ করার ব্যবস্থা বাতিল করেছে সরকার। এর ফলে অশিক্ষক এমপিও পদে নিয়োগের ক্ষমতা আবারও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। এতে বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার যুগ্মসচিব সাইয়েদ এ জেড এম মোরশেদ আলীর স্বাক্ষর রয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ এবং স্নাতক (পাস) কলেজে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশমালা পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের নির্দেশমালার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অংশ এ সিদ্ধান্তের আওতায় নয়। ট্রেড অ্যাসিসট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণাগার সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়কের মতো অন্যান্য এমপিও পদে আগের নিয়মেই নিয়োগ দেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জারি করা পরিপত্রের মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সে সময় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং নিয়োগের সুপারিশ করার বিধান করা হয়। ওই কমিটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য থাকার সুযোগ ছিল না।
সর্বশেষ পরিপত্রে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবারও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
তবে অতীতে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকায় পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

