ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

সহিংসতা-নাশকতায় জিরো টলারেন্স

মেহেদী হাসান খাজা
প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকাসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার ও প্রশাসন। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীসহ দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, জনগণের জান-মালের ক্ষতি কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দল-মত-নির্বিশেষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মসূচির আড়ালে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটেই এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুলিশ, র‌্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাঠ পর্যায়ে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি কিংবা যেকোনো ধরনের নাশকতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথ ও সন্দেহভাজন এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে, যাতে অস্ত্র বা বিস্ফোরক ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে।

‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পিঠের চামড়া থাকবে না’ : দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সরকার স্বাগত জানায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো সংগঠনের নামে কেউ যদি সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, বাসে আগুন বা নাশকতার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের জান-মাল রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পিঠের চামড়া থাকবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে সর্বোচ্চ কঠোরতায় চলবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’

‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা’ : পুলিশ সদর দপ্তরে জরুরি বৈঠক শেষে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু, তবে অপরাধী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির নামে কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা হলে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। অতীতের মতো এবারও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনো অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

‘ঢাকাকে অশান্ত হতে দেওয়া হবে না’ : ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সর্বদা সজাগ। কোনো অবস্থাতেই ঢাকাকে অবরুদ্ধ বা অশান্ত করতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে নাশকতার কিছু পরিকল্পনার তথ্য আমাদের কাছে ছিল, যা ইতিমধ্যে নস্যাৎ করা হয়েছে। ঢাকার প্রতিটি মোড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে- এমন কোনো মিছিল-সমাবেশ অনুমতি ছাড়া করতে দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলেই তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গুজব ছড়ালেও ব্যবস্থা : প্রশাসনের সূত্র জানায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত উসকানিদাতা ও নাশকতাকারীদের অগ্রিম গ্রেপ্তার এবং তল্লাশি চালানো হবে। কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দ্রুত র‌্যাব-পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করে গুজব ও উসকানিমূলক পোস্টদাতাদের শনাক্ত করে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রশাসন জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে কিংবা কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের এই অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’-নীতিতে অটল রয়েছে।