ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০১:১৪ এএম

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন দিক তৈরি হয়েছে। বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়া কীভাবে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে ইন্টারপোলের  গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া যায় সে প্রক্রিয়াসহ ৪টি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ।

সম্প্রতি দুবাই পুলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে। সন্তোষজনক জবাব পেলে বেনজীর আহমেদকে ফেরত দিতে চায় দুবাই পুলিশ। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবির মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রস্তুত করতে শুরু করেছে। শিগগিরই  চিঠির জবাব  দেওয়া হবে।

জনাতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি দুবাই পুলিশ একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সে দেশে গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা। ব্যাখ্যাগুলো নিয়ে কাজ করছে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি। এনসিবি শাখার সহযোগিতায় দুবাই পুলিশের চিঠির ব্যাখ্যা দেবে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অন্তত চারটি সুনির্দিষ্ট কোয়ারির জবাব চেয়েছে দুবাই পুলিশ। শিগগিরই এসব বিষয়ে জবাব দেবে দুদক। এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম কাজ করছেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এবং দুদকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমস্ত ডকুমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি দুবাই পুলিশ থেকে কয়েকটা বিষয়ে ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যা দুদকে এসেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা খুব শিগগির তা পাঠিয়ে দেবে।

এর আগে গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নি¤েœাক্ত তথ্য ও নথি সংযুক্ত করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছেÑ প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি (যদি থাকে), জাতীয়তা, ঠিকানা এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্য; অভিযুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, নির্ধারিত শাস্তি এবং তামাদি-সংক্রান্ত বিধানের অনুলিপি; অনুরোধকারী দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা; মামলার বিস্তারিত বিবরণ, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং অপরাধ সংঘটনের স্থান উল্লেখ থাকবে। তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে; দ-িত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা দ-াদেশের সত্যায়িত অনুলিপি, অপরাধের বিবরণ, আরোপিত শাস্তি এবং রায় কার্যকরযোগ্য হওয়ার প্রমাণপত্র ইত্যাদি।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। দুর্নীতির দুই মামলার তদন্তকালে আদালতের নির্দেশনায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল দুদক। মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদী দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের গ্রেপ্তার পরওয়ানা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।