রাজনীতিতে একটি গোপন ভিডিও বা স্টিং অপারেশন কখনও কখনও মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে একজন নেতার ভাগ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের পর পদত্যাগ, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস এবং সরকার পর্যন্ত পতনের মতো ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত এমন কয়েকটি ঘটনা রূপালী বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য নিতে তুলে ধরা হলো।
হাইনৎস-ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাখ (অস্ট্রিয়া)
২০১৯ সালে অস্ট্রিয়ার তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর হাইনৎস-ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাখ ‘ইবিজা অ্যাফেয়ারের’ কারণে পদত্যাগে বাধ্য হন। স্পেনের ইবিজা দ্বীপে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাকে এক ছদ্মবেশী রুশ ধনকুবেরের আত্মীয়ের সঙ্গে সরকারি চুক্তির বিনিময়ে সংবাদমাধ্যমের সহায়তা ও নির্বাচনি সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত জোট সরকারও ভেঙে পড়ে।
ম্যাট হ্যানকক (যুক্তরাজ্য)
যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের কারণে পদত্যাগ করেন। ভিডিওতে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এক নারী সহকর্মীকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করতে দেখা যায়। সে সময় দেশজুড়ে কঠোর করোনা বিধিনিষেধ চলছিল এবং সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে আহ্বান জানাচ্ছিল সরকার। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
লর্ড সিউয়েল (যুক্তরাজ্য)
২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার লর্ড সিউয়েল একটি গোপন ভিডিও প্রকাশের পর পদত্যাগ করেন। ভিডিওতে তাকে নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি প্রকাশের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পদ ছাড়তে বাধ্য হন।
বাঙ্গারু লক্ষ্মণ (ভারত)
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাবেক সর্বভারতীয় সভাপতি বাঙ্গারু লক্ষ্মণ ২০০১ সালে তেহেলকা ডটকমের ‘অপারেশন ওয়েস্ট এন্ড’ স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা অস্ত্র ব্যবসায়ী সেজে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে সহায়তার বিনিময়ে তাকে নগদ অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা সেই ভিডিও প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তিনি দলীয় সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বিশ্বের এসব ঘটনা দেখিয়েছে, গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও বা স্টিং অপারেশন শুধু ব্যক্তিগত বিতর্কই নয়, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, দলীয় অবস্থান এমনকি একটি দেশের সরকারকেও বড় সংকটে ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, এসবিএস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

