কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দির ও মসজিদের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিতসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে নগরীর কালীগাছতলা মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার।
পুলিশ জানায়, মন্দিরের সামনে ফেলে যাওয়া একটি ব্যাগ থেকে একটি ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি উদ্ধার করে লালমাই পাহাড় এলাকায় পুলিশের ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় কালীগাছতলা মন্দিরে শনি পূজা চলাকালে তিন দুর্বৃত্ত মণ্ডপে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী লাঠি দিয়ে ককটেলটি সরানোর চেষ্টা করলে বিস্ফোরণে তিনি আহত হন।
দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মন্দিরের সামনে একটি ব্যাগ ফেলে যায় এবং প্রায় ২০০ মিটার দূরে বাগানবাড়ি জামে মসজিদের সামনে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এক মুসল্লি আহত হন।
আহতদের মধ্যে পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী ও মসজিদের মুসল্লি আবদুল বারেকসহ তিনজন কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও রমজানকে কেন্দ্র করে কেউ কুমিল্লার পরিবেশ অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পর রাতে মু. রেজা হাসান ও সাদমান ইবনে আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

