ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বেতন-ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা।

প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কটির উভয় পাশে অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

এই অবরোধের কারণে ঢাকাগামী ও চট্টগ্রামমুখী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয়মুখী লেনে শুরু হয় তীব্র যানজট। একপর্যায়ে উপজেলার কুটম্বপুর থেকে নুড়িতলা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে যায়।

তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম, চান্দিনা থানা ওসি আতিকুর রহমান, ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা ও বোনাস দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

এই বিষয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী একটি পরিবহনের বাসচালক সুমন বলেন, ‘প্রতিবছরই কয়েকবার ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। আজও একই ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় করা হচ্ছে।’

এর আগে বিভিন্ন সময় ওই পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। গত বছরের ঈদের আগে এমন দৃশ্যও দেখা গিয়েছিল।

কারখানার একাধিক শ্রমিক জানান, দুই মাস ধরে তাদের বেতন দিচ্ছে না মালিকপক্ষ। কারও ৩০ হাজার, কারও ৪০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া। এতে শ্রমিকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া সামনে ঈদ, তাই আজ বাধ্য হয়ে তারা মহাসড়কে নেমেছেন।

ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের জানিয়েছি, বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানুয়ারি মাসের বেতন পাবেন। আর ১৬ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দেওয়া হবে। একটি মহল ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।’

এদিকে শ্রমিকদের অবরোধে আটকে থাকা স্টার লাইন পরিবহনের বাসচালক স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় আড়াই ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলেও এই যানজটের দুর্ভোগ দীর্ঘক্ষণ থাকবে।’

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি চিকিৎসক দেখানোর জন্য বাড়ি থেকে কুমিল্লায় রওনা দিয়েছেন। পথে যানজটে আটকা পড়ে যথাসময়ে চিকিৎসক দেখানো সম্ভব হয়নি।’

ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘শ্রমিকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তারা শিগগিরই বেতন-বোনাস পাবেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক, তবে ধীরগতি রয়েছে।’