দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুলবাড়ী পৌরশহরের উর্বশী সিনেকমপ্লেক্সের সামনের সড়কের ওপর প্রতিদিন চালের হাটবাজার বসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। ফলে আঞ্চলিক মহাসড়কটি সাধারণ যাত্রী ও যানবাহনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতারাও ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন। এরপরও সড়কের ওপর এই অবৈধ চালের হাটবাজার বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
পুস্তক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসছে। এতে যানবাহন, পথচারী, ক্রেতা ও বিক্রেতা সবাইকে বিপজ্জনক ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম প্রান্তের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ, শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ, দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা ও অন্তত ১৫টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাস শ্রমিক আব্দুল খালেক বলেন, ব্যস্ততম সড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। হাটবাজারের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই দ্রুত এই হাটবাজার সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর চালের দোকান বসিয়ে বেচাকেনা করা উপজেলার গোকুল গ্রামের জয়ন্ত কুমার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সকালের দিকে এই সড়কের ওপর চাল বেচাকেনা হয়ে আসছে। এখানকার ক্ষুদ্র চাল উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা (কুটির শিল্পের মিল মালিক) তাদের উৎপাদিত চাল বিক্রি করতে আসেন। স্থানীয়রা এখান থেকেই তুলনামূলক কম দামে চাল কিনে থাকেন। তবে দুপুর ১২টার মধ্যেই বাজার উঠে যায়।
আরেক ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সেনড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, মহাসড়কের ওপর বাজার বসায় ঝুঁকি তো আছেই। তবে জীবিকার তাগিদে এখানে আসতে হয়। গাড়ি চলাচলের কারণে নিজেও সবসময় ভয় নিয়ে ব্যবসা করি।
ফুলবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী লিমন বলেন, চালের হাটবাজার দীর্ঘদিন ধরেই বসছে। তবে এখন এটি সড়কের ওপর চলে এসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ফুলবাড়ী সড়ক উপ-বিভাগ) মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দোকানপাট বা হাটবাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম বলেন, সড়কপথকে ঝুঁকিমুক্ত করতে মহাসড়কের ওপর থেকে নিত্যদিনের চালের হাটবাজার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


