গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্প বড় ধরনের চাপে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো বিদেশি ক্রয়াদেশ সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্প মালিকরা। অন্যদিকে, কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে বেতন না পাওয়া ও চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে।
কয়েক মাস আগেও বাড়তি রপ্তানি আদেশে চাঙা ছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় একের পর এক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় দিনে কয়েক ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। ফলে সময়মতো রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
শিল্প মালিকরা জানান, বিদেশি ক্রেতারা এখনো আস্থা হারাননি, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্ডার কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে পুরো শিল্প খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা বলছেন, গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শিল্প টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাদমা গ্রুপের ডিজিএম (কারিগরি) মো. জুয়েল হাসান বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সময় উৎপাদন লাইন চালু রাখা যায় না। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন কমে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এ পরিস্থিতি শিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি।
শুধু শিল্পকারখানাই নয়; সংকটে পড়েছে পরিবহন খাতও। গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে যাত্রী ভোগান্তিও বাড়ছে।
অন্যদিকে, কারখানায় শ্রমিক উপস্থিত থাকলেও গ্যাস না থাকায় অনেক সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের একদিকে বেতন অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে চাকরি হারানোর ভয় তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কারখানায় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিকরা জানান, নিয়মিত কাজ না থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই কিস্তি, বাড়িভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে পরিস্থিতিকে সাময়িক বলে দাবি করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির গাজীপুর অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) গোলাম ফারুক বলেন, মূল সাপ্লাই লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেলে মাঝেমধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে। এতে দেশের রপ্তানি আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সামগ্রিক শিল্প খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। তাই শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষই।


