ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-প্রশাসন মুখোমুখি, উপাচার্যকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০২:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, প্রশাসন ও শিক্ষকদের হামলায় অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে তারা মিছিল বের করে উপাচার্যের গাড়ি আটকে দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উপাচার্যের গাড়িটি ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে একই বিষয়ে ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও বারবার অকৃতকার্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, তা তদন্তে কমিশন গঠনসহ চার দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু প্রশাসন ও শিক্ষকরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের গাড়ির ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে নাজেহাল করেন। তিনি আরও বলেন, গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে উপাচার্য হামলার শিকার হন।

অটোপাশের দাবির বিষয়ে উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটোপাশ বা গ্রেস নম্বর দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, খাতা মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের গাড়ি আটকে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।