রাজধানীর কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার (৩২) টানা সাত দিন ধরে নিখোঁজ। তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বাড়িতে স্বামীর অপেক্ষায় দিন গুনছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী।
রোববার (৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপটা গ্রামে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনো তার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এসআই রাকিবুলের স্ত্রী সামিয়া বলেন, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। রাকিবুল হাসান গত ২৪ মার্চ কিশোরগঞ্জের পিবিআই থেকে বদলি হয়ে ঢাকার কলাবাগান থানায় যোগ দেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে তিনি একবারও বাড়ি যেতে পারেননি।
সামিয়া জানান, সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়। সে সময় রাকিবুল অসুস্থ বাবার জন্য দোয়া চান এবং স্ত্রীকে নিজের খেয়াল রাখতে বলেন। একই দিন বিকেলে তিনি স্বামীকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর পাননি। পরে রাত ১০টার দিকে ফোন করলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাবাগান থানা থেকে রাকিবুলের বাবার নম্বরে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়, তিনি বাড়িতে এসেছেন কি না। তখনই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
রাকিবুল হাসান চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় থাকেন। ছোট ভাই সাদমান আল সাকিব ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী। ছোট বোন মারিয়া স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।
রাকিবুলের বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি বলেন, তার ভাই ২০২২ সালে এসআই পদে যোগ দেন এবং প্রায় দেড় বছর কিশোরগঞ্জ পিবিআইয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় যোগ দেওয়ার পরই তিনি নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাকিবুলের বাবা দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস সি, ডায়াবেটিস ও লিভার সিরোসিসে ভুগছেন। তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ছেলের নিখোঁজের বিষয়টি পুরোপুরি জানানো হয়নি।
রাকিবুলের বোন অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদে তার ভাইকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কোথাও বলা হচ্ছে, তিনি আগেও পালিয়ে গেছেন বা কোথাও থেকে টাকা তুলেছেন—এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার ভাই শান্ত স্বভাবের মানুষ। তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাই। একই সঙ্গে তিনি ভাইকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

