ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গাজীপুরে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত বেড়ে ২

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকায় ট্রান্সমিটারের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে মারা গেছেন স্থানীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান (৫৬)। এর আগে ঘটনাস্থলে নিহত হন কিশোর রবিউল ইসলাম (১৭)।

এ ঘটনায় এখনও আরও দুইজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে পারিজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে সমস্যা হয়। একপর্যায়ে ট্রান্সমিটারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় আশপাশে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন রাজশাহী জেলার বাসিন্দা মো. সোহেল মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (১৭)। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার পারিজাত এলাকায় সেলিম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যুতায়িত তার শরীরে জড়িয়ে যাওয়ায় রবিউলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন পারিজাত এলাকার গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান (৫৬), পারিজাত এলাকার বাসিন্দা মো. সোহানের ছেলে তালহা (১০) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার সড়কঘাটা গ্রামের জামরুল ইসলামের ছেলে মো. নিরব (১০)।

আহতদের প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাওলানা হাবিবুর রহমান ও শিশু তালহার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। তার মৃত্যুতে পারিজাত এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং এলাকায় একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অপরদিকে আহত শিশু তালহা ও নিরব চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কোনাবাড়ী থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) বিশ্বজিৎ মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আহত খতিবের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।