গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পঙ্গু স্বামী ও তিন বছর বয়সি কন্যা শিশুকে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন এক নারী। স্বামীর অভিযোগ, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছেন তিনি।
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গিমাডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামে। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান রিম্পা আক্তার। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বুধবার রাতে টুঙ্গিপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পঙ্গু ভ্যানচালক স্বামী রাজ্জাক শেখ।
রাজ্জাক শেখ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের রুহুল শেখের ছেলে। তবে বিয়ের পর থেকে তিনি টুঙ্গিপাড়ার পূর্ব গিমাডাঙ্গা গ্রামে মামার বাড়িতে বসবাস করে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আগে ইমাদ পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাজ্জাক শেখের একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে তিনি ওই অবস্থায় ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করছেন।
প্রায় পাঁচ বছর আগে খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামের রহমান সরদারের মেয়ে রিম্পা আক্তার (১৮)-এর সঙ্গে রাজ্জাকের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে সুখেই তাদের সংসার চলছিল। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হঠাৎ করে স্ত্রী রিম্পা তিন বছর বয়সী কন্যা শিশুকে বাড়িতে রেখে কোথাও চলে যান। পরে স্বামী রাজ্জাক পাগলের মতো খোঁজাখুঁজি করেও তাকে খুঁজে পাননি।
পঙ্গু ভ্যানচালক রাজ্জাক শেখ বলেন, ‘গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হই। যাওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয় এবং বিকেলে ফিরে আসার কথা জানাই। কিন্তু বিকেলে বাড়ি ফিরে দেখি, স্ত্রী রিম্পা ঘরে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। সে যাওয়ার আগে ঘর তৈরির জন্য কিস্তিতে নেওয়া এক লাখ টাকাও নিয়ে গেছে। কয়েকদিন পর রিম্পা ফোন করে জানায়, সে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে করেছে এবং আর ফিরবে না। একই সঙ্গে তালাকের কাগজপত্র পাঠানোর কথাও বলে কল কেটে দেয়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজ্জাক আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো বড় ধরনের ঝগড়া হয়নি। ছোটখাট বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হলেও স্বাভাবিক সংসার চলছিল। কিন্তু সে এভাবে চলে গেল, সেটা মেনে নিতে পারছি না। ছোট বাচ্চাটির জন্য সে ফিরে এলে আমি এখনো তাকে মেনে নিতে প্রস্তুত। কারণ শিশুটি এখনো ‘মা, মা’ করে কাঁদছে।’ স্ত্রীকে ফিরে পেতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে রিম্পার দেওয়া নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা রহমান সরদার বলেন, ‘শুনেছি, সে তার স্বামীকে জানিয়েই প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছে। রিম্পা যাওয়ার পর থেকে আমাদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করেনি।’
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাজ্জাক শেখ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



