গোপালগঞ্জে একটি দালালচক্র বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে—যারা বেশি টাকার বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে রাশিয়া নিয়ে সেখানে সেনাবাহিনীর কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে। এরপর সেখানে গিয়ে মাত্র কয়েক দিনের ট্রেনিং দিয়ে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এরই মধ্যে সম্প্রতি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে নেওয়া ৩০ যুবককে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এজেন্সি ও দালালচক্র। এর মধ্যে তিনজন রয়েছে গোপালগঞ্জ সদরের। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩৫ লাখ টাকা করে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে তাদের বিক্রি করা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের জামিল শেখের ছেলে পলাশ শেখ। ছোটবেলায় মাকে হারিয়ে দাদা-দাদীর কাছে বড় হন। সেই থেকেই দুই চোখে স্বপ্ন ছিল পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর। পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছলতা দিতে ভালো চাকরির আশায় ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে এজেন্সি ও দালালের মাধ্যমে গত ৭ মে পাড়ি জমান রাশিয়ায়।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দালাল চক্র সেখানকার রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জিম্মায় দিয়ে জোর করে এক বছরের চুক্তি করানো হয়। যেখানে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য তাদের চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, বাংলাদেশি জাবালে নুর এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে ৩৫ লাখ টাকায় রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে তাকে দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধের সামরিক প্রশিক্ষণ—ফোনে পরিবারকে এমনটাই জানিয়েছে পলাশ।
শুধু পলাশ শেখ নয়, বাংলাদেশি আরও ৩০ জনকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সেখানকার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ সদরের আরও দুই যুবক। তারা হলেন সদর উপজেলার সীতারকুল গ্রামের লিচু ফকিরের ছেলে রনি ফকির এবং বলাকৈড় গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে সৌরভ মোল্যা।
তাদেরকেও রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করার খবরে পরিবারে এখন শুধু কান্নার রোল। দ্রুত সন্তানদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীদের স্বজন ও এলাকাবাসী বলছে, তাদের অক্ষত ও জীবিত ফেরত আনার পাশাপাশি ওই এজেন্সি ও দালালচক্রের সদস্যদের কঠোর বিচার করা হোক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ।
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, অভিযোগ পেলে স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা পরিবারগুলোর।


