ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

র‍্যাব সদস্যের স্ত্রী হত্যার বিচারের দাবিতে থানায় অবস্থান

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে র‍্যাব সদস্যের স্ত্রী লিপি খাতুন হত্যাকাণ্ডের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সরিষাবাড়ী গণময়দান মাঠ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দিগপাইত-তারাকান্দি প্রধান সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা পুনরায় মিছিল নিয়ে সরিষাবাড়ী থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের শিথিলতার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে নিহতের মা কল্পনা বেগম ও বাবা মঞ্জুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েকে যারা অন্যায়ভাবে কেড়ে নিয়েছে, তাদের ফাঁসি না দেখা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, নিহতের বোন মিম ও সালেমা খাতুন, ভাবি মোমনা এবং এলাকাবাসীর পক্ষে সাইফুল ইসলাম। এ সময় লিপি খাতুনের শিশু সন্তানকে স্বজনদের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা উপস্থিত সকলের হৃদয় নাড়া দেয়।

থানায় ঘেরাও চলাকালে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভোরে সরিষাবাড়ী পৌরসভার শিমলা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা র‍্যাব সদস্যের স্ত্রী লিপি খাতুন (৩৫)-কে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। তিনি কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকার মহর উদ্দিনের স্ত্রী। তার স্বামী বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুরে র‍্যাব-২-এ কর্মরত রয়েছেন।

এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।