ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে হত্যার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় তারা।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নিহতের বোন মাসুমা হাদি।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমা হাদি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রকাশ্য দিবালোকে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্ত সংস্থা এখনো আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য গুলির ঘটনার পর কীভাবে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেল, সেটিও রহস্যজনক। তবে গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।
মাসুমা হাদি পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা উচিত।
হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, দায়সারা কোনো চার্জশিট দেওয়া হলে তা পরিবার ও সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করা হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ সময় নিহত ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

