× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

গাছ কেটে কোনো প্রকল্প নয়

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

‎বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, গ্রাসরুট নেটওয়ার্কের প্রধান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, গাছ কেটে প্রকৃতি পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো কাজকে উন্নয়ন প্রকল্প বলা যাবে না। এই পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের জাতীয় সম্পদ, এগুলো হারালে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুনত্ব আনতে হবে।

‎সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝালকাঠির সদর উপজেলার গাবখান চ্যানেলের পাড়ে গাছ কাটার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বারুহার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

‎পরিদর্শনকালে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, গাবখান এলাকার এই প্রাকৃতিক পরিবেশ শুধু কিছু গাছের সমষ্টি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এখানে গাছ, পাখি, প্রাণী, মাটি ও পানির মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য গড়ে উঠেছে, যা বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে শুধু গাছই নয়, পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হয়ে যাবে। পাখি কমে গেলে পোকামাকড়ের আধিক্য বাড়বে, সরীসৃপ না থাকলে জীববৈচিত্র্যের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়বে—ফলে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

‎তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক অঞ্চল জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাছপালা বাতাস পরিশোধন করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। গাবখানের মতো একটি সবুজ পরিবেশ ধ্বংস হলে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে—কৃষি, মৎস্য ও জনস্বাস্থ্য খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

‎ড. হায়দার জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন মানেই প্রকৃতি ধ্বংস করা নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ করেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য তিনি পরিবেশবিদ, জীববিজ্ঞানী ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। প্রয়োজন হলে বিকল্প নকশা তৈরি করে গাছ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

‎পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি অন্য জায়গার কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্বন কপি এখানে করতে পারবেন না। এখানে নতুনত্ব আনতে হবে। এক্সপার্টদের নিয়ে নতুনভাবে রিভিউ করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অর্থাৎ পরিবেশ যেভাবে আছে সেটিকে ঠিক রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। অন্য কোনো জায়গার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা এখানে চাপিয়ে দিলেই হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও গাছপালা-নদীনালা রক্ষার আন্দোলনের সভাপতি মো. আককাস সিকদার, উপদেষ্টা দুলাল সাহা ও ফয়েজ ইফতেখার রনি, সদস্য সালেহ হাসানসহ স্থানীয় আরও অনেকে।

‎উল্লেখ্য, ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর পাড়ে কয়েক হাজার গাছ কাটার কাজটি বাস্তবায়ন করছে বন বিভাগ, যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি চলমান প্রকল্পের অংশ। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে এই গাছ কাটার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং পবিত্র রমজান মাসে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬০টি গাছ কাটা হয়েছে।

‎পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের পর জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন গাছ কাটা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে ঈদের আগে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর পুনরায় গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও বর্তমানে গাছ কাটা বন্ধ রয়েছে, তবে স্থানীয়দের আশংকা, যেকোনো সময় আবারও গাছ কাটার কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!