ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল সিকদারের নির্যাতনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তার স্ত্রী। যৌতুকের দাবি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১২টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের কাজী খলিলুর রহমান মিলনায়তনে জামাল সিকদারের স্ত্রী ভুক্তভোগী নিশাত জাহান ছবি সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে ধর্ম পরিবর্তন করে এফিডেভিটের মাধ্যমে রিয়াছুল আমিন ওরফে জামাল সিকদারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর দীর্ঘদিন পিত্রালয়ে বসবাস করলেও পরবর্তীতে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সংসার শুরু করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ পর্যন্ত বাবার বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং ব্যবহৃত চার ভরি স্বর্ণালংকার স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। তবুও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, 'আমার স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে এবং আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আমাকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।'
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে বলে জানান নিশাত।
নিশাত জাহান ছবি বলেন, 'বিয়ের পর থেকেই আমার ওপর যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণ এনে দিতে হয়েছে। তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। আমাকে মারধর করা হয়েছে, একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখন আমার ও আমার সন্তানের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি।'
অভিযুক্ত রিয়াছুল আমিন ওরফে জামাল সিকদার বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ব্যক্তিগত স্বার্থে আমাকে হেয় করার জন্য এসব বলা হচ্ছে। সে আমার বাড়ি থেকে চলে গেছে, পালিয়ে বেড়াচ্ছে না।'

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন