ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জ্বালানি খাতে ন্যায্য ও টেকসই রূপান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতে ন্যায্য ও টেকসই রূপান্তরের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের কাছে ১৩ দফা দাবিনামা তুলে ধরেছে খুলনার নাগরিক সমাজ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-খুলনার নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে শূন্য নির্গমনের লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা, দুর্নীতি ও অদূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে।

গত দেড় দশকে বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ ও লোকসান এবং প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো যেন তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সবুজ জ্বালানি ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয় এ দাবিও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ, ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিবহন খাত সবুজায়ন, স্মার্ট গ্রিড উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যয়বহুল ও অপ্রমাণিত প্রযুক্তি থেকে সরে আসা।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির বর্জ্য পুনর্ব্যবহার শিল্প গড়ে তোলা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কৃষিজমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা পদ্ধতি চালুর দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে এ দাবিনামা রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

অতীতে জ্বালানি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটনে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তারা বলেন, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকরা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এটাই তাদের প্রত্যাশা।