মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বালু ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে একটি শতবর্ষী প্রবাহমান খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দী ভাটেরচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের ওপর বালু ভরাট করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটেরচর মৌজা ও ওমেদারকান্দী মৌজার সংযোগস্থলে অবস্থিত খালটি কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই বালু ফেলে দখল করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে পুরো খালটিই নিজেদের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আ. সাত্তার মালিকানাধীন রাজলক্ষ্মী কোম্পানির নামে এই দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বড়ইকান্দী ভাটেরচর এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি মুক্তার খন্দকার। একসময় এই খাল দিয়ে শত মণ মালামাল বহনকারী বড় নৌকাও চলাচল করত। কিন্তু ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে এখন খালটি প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।
আনারপুরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা শফিউল্লাহ বলেন, খালটি দিয়ে দশ বছর আগেও বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করত। এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে ছোট কোসা নৌকাও চলতে পারবে না। চোখের সামনে খালটা দখল হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, খালটি শুধু পানি চলাচলের পথ নয়, আশপাশের জমির সেচ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার অনেক জমি ও বসতবাড়ি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকাম্মেল হোসেন জানান, খাল দখলের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে যারা কাজ তদারকি করছিলেন তারা জানান, এসিল্যান্ড অফিস থেকে লোক এসে ডিমার্কেশন করে দিয়েছেন। এরপর আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রাজলক্ষ্মী কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মুক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কোনো খালের জায়গা দখল করিনি।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিসূচক বক্তব্য দিয়ে বলেন, জেলা বিএনপির নেতারা এলেও কিছু করতে পারবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে খাল দখলমুক্ত করতে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, সেখানে কোনোভাবেই খাল দখল মেনে নেওয়া যায় না।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে গিয়ে ডিমার্কেশন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি খালের জায়গা দখল করা হয়ে থাকে, তাহলে তা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

