ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

স্কুলবাস চালকের হাত ধরে ছাত্রী উধাও

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ইউনুছ খান মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের স্কুলবাস চালকের সঙ্গে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিখোঁজ কিশোরী শ্রীনগর উপজেলার তন্ত্রর ইউনিয়নের তন্ত্রর গ্রামের দেলোয়ার শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত বাসচালক মো. আরিফ (২৫) গাঁওদিয়া ইউনিয়নের গাঁওদিয়া বাজার এলাকার মাছ বিক্রেতা মো. আনু মুন্সীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি গ্রামে অবস্থিত ইউনুস খান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব বাসচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন আরিফ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আনা-নেওয়ার সুবাদে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শুক্রবার বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও ওই ছাত্রী আর ফিরে আসেনি।

অভিযুক্ত চালকের মা সাহানাজ বেগম জানান, তার ছেলে আরিফও একই দিন থেকে নিখোঁজ এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রেখে তারা মেয়েকে বাসে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু চালক সেই বিশ্বাসের অপব্যবহার করে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটি তারা কল্পনাও করেননি।

এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্কুল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত চালককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৌমিক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে স্কুলের অধ্যক্ষ কামরুল হুদা বলেন, ‘গত ৮ এপ্রিল ঘটনার পরপরই চালককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ডেকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।’

এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া বলেন, বিষয়টি ব্যাপারে অবগত রয়েছি। মেয়েটির সাথে ছেলের সাথে দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।