মুন্সীগঞ্জের চর-বাংলাবাজারে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষক মনির মোল্লাকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ন্যায্য বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। তারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের সন্তান মো. তমিজ মোল্লা, মো. তাইজুল মোল্লা, মো. শ্যামল মোল্লা এবং নাতনি আনজুম আরা এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. শ্যামল মোল্লা। তিনি জানান, তার বাবা মনির মোল্লা পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। গরুর দুধ বিক্রি ও সামান্য জমি চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি পরিবার চালাতেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ৪ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বাবা-মায়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে প্রতিবেশী নিজাম মিজি তা মীমাংসার কথা বলে তাদের নিজের বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে মনির মোল্লার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজাম মিজি কাঠের ডাসা দিয়ে মনির মোল্লাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় উপস্থিত খোরশেদ আলম ওরফে খুইশ্যা মাঝি, বিলকিস বেগম, নিশি বেগম ও ইতি আক্তার তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে নিজাম মিজি তার অন্ডকোষে জোরে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
নিহতের স্ত্রী তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় মনির মোল্লাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন ৫ মার্চ সকালে ঢাকার ডেমরা এলাকায় তার ছেলের বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ডেমরা থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় ৭ মার্চ মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিপক্ষের প্ররোচনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজনরা বলেন, পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


