মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়; এর সঙ্গে অন্য কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামের তুলনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুর দুইটায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এটি শুধু একটি আন্দোলন নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তাই একাত্তরের সঙ্গে অন্য কোনো সময় বা ঘটনার সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে আমরা একাত্তরের চেতনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখতে পারি। আমরা কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামকে ছোট করে দেখছি না; তবে একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের তুলনা করা উচিত নয়।
তিনি আরও জানান, অতীতে যারা রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়েছেন এবং আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান আছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিস মিয়া, গজারিয়া থানার ওসি হাসান আলী, জেলা বিএনপির সদস্য ইসহাক আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুজাম্মেল হক মুন্নাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সামনে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পিন্টু। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানির সঙ্গে চিকিৎসা ভাতা সংযোজন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন গজারিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে গজারিয়া প্রেসক্লাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
-20260506192847.webp)

