ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী ১১ জন নেতা পদ পেয়েছেন। এ কমিটিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্থান পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শুক্রবার (১ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির স্বাক্ষরিত এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।
কমিটিতে মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে তানভীর আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব মেহেদী হাসান। তবে এই কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির পদধারী ১১ জন নেতা স্থান পেয়েছেন।
এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নোমান, রিজভী আহমেদ, সাদ মোহাম্মদ, নিলয় সাহা প্রয়াস, জান্নাতুল ইসলাম নাবিল, আব্দুল বাসেত শিবলু, আরাফাত হোসাইন রিফাত ও জাকারিয়া আরজু, সাব্বির আহমেদ সৌরভ। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন মেহেরাব হোসেন মিয়াদ ও প্রান্ত সাহা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব নেতার নাম উল্লেখ ছিল।
এ বিষয়ে মেডিকেল কলেজ শাখার সদস্য সচিব মেহেদী হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমানে মেডিকেলের কিডনি বিভাগের প্রধান ডা. আসাদুজ্জামান রতন বলেন, ‘সদ্যঘোষিত মমেক ছাত্রদলের কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা ঢুকে গেছে- এটি আমাদের মতো সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। কমিটি ঘোষণার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল।’
সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হান্নান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ার মাধ্যমে যা দেখা যাচ্ছে তা যদি সত্যি হয়, তবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এটি দলের জন্য বুমেরাং হতে পারে। আমাদের অঙ্গসংগঠনে ত্যাগী ও কর্মঠ নেতাকর্মীর অভাব নেই। তাহলে কেন বিতর্কিতদের এনে কমিটিতে রাখা হলো- এটি বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশা।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কমিটি ঘোষণা করেছে। তবে যেসব কমিটিতে বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছে, তাদের বিষয়ে কেন্দ্র ইতোমধ্যে তথ্য পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও প্রশাসক রুকনুজ্জামান রুকন বলেন, ‘এটি ছাত্রদলের বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমি নিজেও ছাত্ররাজনীতি করেছি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সঙ্গে কথা বলে বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করব। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে যা ঘটেছে, তা অবশ্যই নিন্দনীয়।’



