নওগাঁয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় শহরের নওজোয়ান মাঠে এ গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিন নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান জানাজা নামাজে ইমামতি করেন।
জানাজায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপি, জামায়াত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, হেফাজতে ইসলাম, এবি পার্টিসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জানাজা নামাজের আগে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন, বিএনপি মনোনীত নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিব, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম সায়েম, নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের এবি পার্টির প্রার্থী কাজী আতিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নওগাঁয় নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি, আরমান হোসেন, তানজিম বিন বারী, সাদনান সাকিব, রাফি রেজোয়ান, মেহেদী হাসানসহ অন্যরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র মিলে তাকে হত্যা করেছে। হাদি দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় হাদির বড় প্রয়োজন ছিল। হাদি ভাইকে আমরা কেউ সরাসরি দেখিনি, কিন্তু তার বক্তব্য, দেশপ্রেম ও যুক্তির কাছে সব ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ পরাজিত হয়েছিল। এটি বুঝতে পেরেই তারা হাদি ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। তারা এক হাদিকে শহীদ করেছে, কিন্তু এখন আমাদের হৃদয়ে লক্ষ-কোটি হাদি জেগে উঠেছে। আজ জানাজা থেকে আমরা শপথ নিচ্ছি-আমরা সবাই একেকজন হাদি হব এবং বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করব। ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। অতীতে নওগাঁতে যারা মানুষের ওপর জুলুম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে।’



