ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

নওগাঁয় বাসচালককে মারধরের অভিযোগে এএসপির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:৫৫ এএম
সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ। ছবি : সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে এক বাসচালককে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে গত রোববার রাতে ওই বাসচালককে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার বাসচালকের নাম বাদল। তার বাড়ি রাজশাহী নগরের পঞ্চবটি এলাকায়। ঘটনার পর তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্রে লেখা আছে—‘ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট। পুলিশ কেস।’

এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম)–এর নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাসচালক বাদল বলেন, রোববার রাতে সাপাহার জিরো পয়েন্টে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে এএসপির বডিগার্ড আমাকে সার্কেল কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে এএসপির বডিগার্ড এসএস পাইপ দিয়ে গরু পেটানোর মতো করে আমাকে মারধর করেন। এ সময় এএসপির স্বামী জয়ন্ত বর্মণ লাথি-ঘুসি মারেন এবং শ্যামলী রানী বর্মণ চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাদল আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) আমাকে নওগাঁয় ডাকা হয়েছে। সেখানে পুলিশ সুপার থাকার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, সেখানে যা সত্য, তাই বলবেন। 

বাসের সুপারভাইজার সিয়াম বলেন, রোববার সাপাহার থেকে এক যাত্রী গাড়িতে ওঠেন। সিট না থাকায় তাকে জানানো হয়, টিকিটের যাত্রী এলে সিট ছেড়ে দিতে হবে। এ নিয়ে ওই যাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে খারাপ ভাষায় কথা বলেন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তার স্ত্রী সাপাহারের এএসপি। পরে তিনি চালকের কাগজপত্র দেখতে চান এবং বিভিন্ন হুমকি দিয়ে নেমে যান। কিছুক্ষণ পর ফোনে কল করে নিজেকে এএসপি পরিচয় দিয়ে বাজে কথা বলেন বলেও দাবি করেন সুপারভাইজার।

রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, এএসপি কার্যালয়ে ডাকলে বাদল তাকে ফোন করেন। তিনি তখন এএসপির সঙ্গে কথা বলেন। এএসপি জানান, চালক দুর্ব্যবহার করেছেন, তাকে একটু পাঠাতে বলেন। আধঘণ্টা পর বাদল ফোন করে জানান, তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ। মঙ্গলবার রাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় খারাপ ব্যবহার করার বিষয়টি তিনি নিজে শুনেছেন। পরে চালক ও সুপারভাইজারকে অফিসে ডাকা হয়েছিল। চালক এসে ক্ষমা চান, তবে সুপারভাইজার আসেননি। পরে মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। মারধরের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টির সন্তোষজনক মীমাংসা হয়েছে।

তবে বাসচালক বাদলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নিজের বক্তব্যের বাইরে যেতে পারবেন না। পরে আবার যোগাযোগ করা হলে সন্তোষজনক মীমাংসা হয়েছে—এমন বক্তব্য লেখার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।