নওগাঁয় প্রকাশ্য দিবালোকে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে নিজের বুদ্ধিমত্তায় পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পায় শিশুটি। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও তার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে শহরের কেডির মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘পাঠশালা স্টাডি কেয়ার একাডেমি’ নামের একটি কোচিং সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে।
অপহরণের শিকার শিক্ষার্থীর নাম তাহরিম তাওবা। সে শহরের খাস-নওগাঁ এলাকার মোরশেদুল আলমের মেয়ে এবং পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
থানায় দায়ের করা এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাহরিমকে কোচিং সেন্টারে রেখে যান তার বাবা। পরে সকাল ৯টার দিকে তাকে নিতে এসে আর খুঁজে পাননি। কোচিংয়ের শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, মেয়েটি কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে। এরপর তার বাবা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এক পর্যায়ে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, তাহরিম শহরের দয়ালের মোড় এলাকার একটি বাসায় নিরাপদে রয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল।
ভুক্তভোগী তাহরিম তাওবা জানায়, কলমের কালি শেষ হয়ে যাওয়ায় সে বাইরে গেলে একটি মাইক্রোবাস এসে তার সামনে থামে। সেখান থেকে একজন ব্যক্তি নেমে আসে এবং পেছন থেকে আরও কয়েকজন এসে তার চোখে কাপড় বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে সে নিজেকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দেখতে পায়। সুযোগ বুঝে জুতা হাতে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং সেখানকার লোকজনকে তার বাবার ফোন নম্বর দিলে তারা যোগাযোগ করে।
শিক্ষার্থীর বাবা মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মেয়েকে না পেয়ে আমি আশপাশে খোঁজাখুঁজি করি, এমনকি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেই। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন পেয়ে দয়ালের মোড়ের একটি বাসা থেকে মেয়েকে উদ্ধার করি। এ ঘটনার পর আমরা আতঙ্কে আছি। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, তার মেয়ে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি বাসায় গিয়ে দেখেন শিশুটি আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। পরে শিশুটির দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে তার বাবাকে খবর দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-20260410204156.webp)

