আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতীতে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা এবং অপরাধচক্রকে দমন করার ওপর জোর দিচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পূর্বে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় কারাগার থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৯ জন জঙ্গিসহ ৮২৬ জন কারাবন্দি পালিয়ে যায় এবং লুট করা হয় ৮৪ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ হাজারের অধিক গোলাবারুদ।
ইতোমধ্যে পলাতক কারাবন্দিদের মধ্যে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারসহ মোট ৬৪৪ জন বন্দিকে আইনের আওতায় আনা হলেও এখনো পর্যন্ত ১৫১ জন কারাবন্দি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অপর দিকে কারাগার থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি উদ্ধার করা হলেও এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫ হাজারেরও অধিক গোলাবারুদ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চলতি সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত গত ১৮ মাসে নরসিংদীর ৬টি উপজেলায় ১৫৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর এ সকল খুনের ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মাদক কারবার, বালু ব্যবসা এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটে আসছে। এতে করে ব্যবসায়ী মহলসহ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে এবং আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকারের সাথে আলাপ করলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এটা হুমকিও। আমি সবগুলো থানাকে বলে দিয়েছি যেকোনো মূল্যেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নরসিংদীর মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় বা কিছু করা প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবকিছু করে যাচ্ছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব পড়ে থাকে না, এগুলো একাধিক হাত ইতোমধ্যে বদল হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের কাছে পৌছে গেছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তা নাহলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তবে এ সকল অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর রয়েছে।
নরসিংদী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. তারেক কামাল বলেন, পালিয়ে যাওয়া কারাবন্দিদের সরকার সাধারণ ক্ষমা করার পরও এখনো পর্যন্ত যারা আত্মসমর্পণ করেনি এবং অস্ত্র জমা দেননি তারা অবশ্যই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন। তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নির্বাচনি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ মেঘনা নদী দিয়ে নরসিংদী শহরে প্রবেশ করে যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। পাশাপাশি নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ এখনো অপরাধীদের হাতে রয়েছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

