ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নকল দুধ তৈরির অপরাধে কারখানা মালিককে কারাদণ্ড ও জরিমানা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির অপরাধে সাকায়াত নামে এক কারখানা মালিককে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার সহযোগী সুমন আলী নামে একজনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) রাতে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের শাহানগর গ্রামের ওই কারখানা থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে ৭৩ কেজি জেলি ও ৭০০ লিটার নকল দুধ জব্দ করে পানিতে ফেলে ধ্বংস করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত সাকায়াত পাবনার চাটমোহর উপজেলার সেনগ্রামের আকবর আলীর ছেলে এবং তার সহযোগী সুমন আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার শাহানগর গ্রামের জামশেদ আলীর ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুজ্জামান এ রায় দেন। এ সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলামসহ থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা, বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চল। এখান থেকেই প্রতিদিন দুধ সংগ্রহ করে বিভিন্ন দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিকর জেলি, তেলসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরির পর স্থানীয় চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, দুধে ব্যবহৃত এসব রাসায়নিক উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ভেজাল উপাদানগুলো সরাসরি কিডনি ও ফুসফুসকে অকেজো করে দিতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন এই দুধ সেবনের ফলে শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নকল দুধ তৈরির উপাদান ও নকল দুধ জব্দ করা হয় এবং তা জনসম্মুখে নষ্ট করে ফেলে দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’