ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪। ছবি : সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মাহমুদ হাসান সোনামনি নামে এক যুবদল নেতা তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (১৯ মে)  নাটোরের লালপুর উপজেলার পালিদহ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গ্রেপ্তার মাহমুদ হাসান সোনামনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালিদহ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সোনামনির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কাজল, সুইটসহ তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানা সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর গোকুলনগরের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুজ্জামান বাবার নাম জমশেদ আলী সরকার গত ১৫ মে ঈশ্বরদী থানায় সোনামনিসহ জাকির ও কাজলের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি এজাহার দাখিল করেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির অভিযোগ আনা হয়।

এজাহারে মাহমুদুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ১৭ মাসে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন অভিযুক্তরা। আরাবি পিউরিফাইড ড্রিংকিং ওয়াটার ও মেসার্স আহনাফ এন্টারপ্রাইজ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় জোর করে চাঁদা নিয়েছেন। এছাড়া পদ্মা ড্রিংকিং ওয়াটার ও যমুনা ড্রিংকিং ওয়াটার মালিকদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের চাঁদা নিয়েছেন এবং ভয় দেখিয়ে এই চাঁদা নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন।

মাহমুদুজ্জামান বলেন, আমরা থানা ছাড়াও র‌্যাব-১২ পাবনার কোম্পানি কমান্ডার বরাবরও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। 

এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাহমুদ হাসান ওরফে সোনামনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাবনা-৪ আসনের বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই। সে দলের বহিষ্কৃত নেতা। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। ইতোপূর্বে সোনামনিকে  র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা পায়ে গুলি করেছিল। তার বিরুদ্ধে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সেক্টরে লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা তার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না। তবে তার এই কর্মকাণ্ডে তাকে কেউ কখনো বাধা দেওয়ার সুযোগ পায়নি।