ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

হাঁস-মুরগির ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে কাঁচির কোপে ব্যক্তির মৃত্যু

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
দুলাল মল্লিক। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হাঁস-মুরগির ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের কাঁচির কোপে দুলাল মল্লিক (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত দুলাল মল্লিক উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মকুমা গ্রামের মৃত আক্কাস মল্লিকের ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা মহারাজ খানের হাঁস-মুরগি প্রতিবেশী দুলাল মল্লিকের জমিতে গিয়ে পাকা ধান নষ্ট করছিল। এ বিষয়ে দুলাল মল্লিক মহারাজ খানের পরিবারকে অভিযোগ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

বিতণ্ডার একপর্যায়ে মহারাজ খান, তার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৮) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (২২) সংঘবদ্ধ হয়ে দুলাল মল্লিকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন।

নিহতের ছেলে মো. শাওন মল্লিক তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারা কয়েকজন মিলে তার বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং কাঁচি দিয়ে কোপান। সাদিয়া আক্তার কাঁচি দিয়ে মাথায় সজোরে কোপ দেন। এতে তার বাবা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

জনৈক আইনজীবী জানান, যেহেতু দুলাল মল্লিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন, তাই এখানকার স্থানীয় থানায় আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আওতাধীন শাহবাগ থানা থেকে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে।

স্থানীয় ও স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুলাল মল্লিককে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এটিকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুস ছালাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা নিরসনে পুলিশ সজাগ রয়েছে। মরদেহ আসার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।