রাজশাহীর কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুজাউদ্দীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচেতন নাগরিকসমাজ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
বুধবার (৬ মে) বেলা ১২টায় কাকনহাট বাজারের গোডাউন মোড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা অধ্যক্ষ সুজাউদ্দীনের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, কলেজের রিজার্ভ ফান্ড থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির নিরীক্ষায় বিভিন্ন খাতে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গভর্নিং বডি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে বরখাস্ত হওয়ার সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশন বই নিয়ে যান বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একটি মামলাও চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, সুজাউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি অডিট টিম গঠন করলেও তার প্রভাবের কারণে তদন্ত প্রতিবেদন বিলম্বিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। তিনি বহিষ্কৃত থাকা সত্ত্বেও কলেজের কাগজ ব্যবহার করে অবৈধভাবে সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, বহিষ্কৃত অবস্থায় থেকেও তিনি কলেজের বিদ্যমান গভর্নিং বডির অজান্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সভাপতি পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো পুনরায় অধ্যক্ষ পদে ফিরে আসা।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



