রাজশাহীতে ট্রেনের টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) কর্তৃক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, রাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ভূত সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া, অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে ঢাকাগামী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস’ সহ দূরপাল্লার ট্রেনগুলো।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, ৪ দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে রেললাইন অবরোধ ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি হলো-
১. সশরীরে জবাবদিহিতা: অভিযুক্ত টিটিইকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির করে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।
২. চাকরিচ্যুত ও মামলা: দুর্নীতির দায়ে টিটিইকে চাকরি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করতে হবে।
৩. ক্ষতিপূরণ প্রদান: শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে স্টপেজ: শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাবি স্টেশনে দূরপাল্লার সব ট্রেনের আবশ্যকীয় যাত্রাবিরতি বা স্টপেজ দিতে হবে।

