জামায়াতে ইসলামী এখন ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগে কেউ মনে করত না জামায়াত ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। তবে এখন অনেকেই দলটিকে সে দৃষ্টিতে দেখছেন। এজন্য নেতাকর্মীদের লেনদেন ও আচার-আচরণে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের জেলা, উপজেলা ও থানা আমিরদের সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘দুইটা সার্চলাইট এখন আপনাদের দিকে তাক করা আছে। একটা আল্লাহ তাআলার, আরেকটা জনগণের। এই দুইটাকেই সম্মান ও সমীহ করতে হবে।’
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাদা কাপড় যারা পরে তারা খুব সতর্ক থাকে, যেন কোনো দাগ না লাগে। কিন্তু অল্প দাগ লাগলেও সেটা বেশি দেখা যায়। আপনারা সাদা কাপড়। দাগ লাগলে খবর আছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলে একসময় সব শক্তি এক জায়গায় মিলিত হবে। তিনি বলেন, ‘জনগণের যেদিন আস্থা তৈরি হবে যে আমাদের কাছে দেশ, জাতি ও দ্বীন নিরাপদ, সেদিন আল্লাহর মেহেরবানীতে দেখবেন সব ঘাট এক জায়গায় মিলে যাবে। সব নদী এক মোহনায় এসে একটা সমুদ্র তৈরি করবে। এই কাজটা আপনাকে-আমাকে করতে হবে। আমাদের লেনদেন ও আচার-আচরণ আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, এর আগে কখনো আপনারা (জামায়াত) ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন—এটা কেউ মনে করত না। মনে করত, একটি কার্যকর দল হিসেবে এরা টিকে থাকবে, এতটুকুই। এখন অনেকে মনে করে আপনারা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। কাজেই আপনাদের প্রত্যেককে সার্চলাইট দিয়ে দেখা হবে। আপনাদের শরীরের একটা লোমকূপও সার্চলাইটের বাইরে থাকবে না।’
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অঞ্চল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপিসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল ৯টায় একদিনের সফরে রংপুরে আসেন জামায়াত আমির। সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেয় মহানগর পুলিশ। পরে তিনি নগরীর মডেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আমির সম্মেলনে যোগ দেন। জুমার নামাজ শেষে একটি মসজিদ উদ্বোধনের পর বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।


