সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়াটির দায়িত্ব নিয়ে অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহান। আর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৩০ জুন রাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহানের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, একটি অন্ধ ও মারাত্মক অসুস্থ ঘোড়া স্থানীয় একটি শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে গেলেও কিংবা কেবল ভিডিও ধারণ করলেও, প্রাণীটিকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেননি।
তবে সেই ভিডিও দেখে স্থির থাকতে পারেননি চান্দুড়িয়া গ্রামের উচ্চমাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট) পরীক্ষার্থী সোহান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পরে স্থানীয় পশুচিকিৎসক ঘোড়াটিকে পরীক্ষা করে জানান, প্রাণীটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার মাধ্যমে এর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা আর সম্ভব নয়।
এই নির্মম সত্য জানার পরও সোহান ঘোড়াটিকে ফেলে দেননি। বরং নিজের পরিবারকে সাথে নিয়ে পরম মমতায় অন্ধ প্রাণীটির পরিচর্যার দায়িত্ব তুলে নিয়ে বলেন, দুচোখ অন্ধ হলেও এটি তো একটি জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটি প্রাণীকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারিনি। তাই বাড়িতে নিয়ে এসেছি। যতদিন বাঁচবে, আমরা ওর যত্ন নেব।
সোহানের এই নিঃস্বার্থ প্রাণিপ্রেমের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই কলেজছাত্রের মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের সার্বিক নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানের পর, মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা সোহানের বাড়িতে যান। তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহানের হাতে আর্থিক সহায়তা এবং বিশেষ উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে যেখানে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতির অভাব দেখা যায়, সেখানে অবোলা একটি প্রাণীর প্রতি সোহানের এই ভালোবাসা সমাজের জন্য এক বড় বার্তা। আর দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই তরুণকে উৎসাহিত করার বিষয়টি এলাকায় বেশ সমাদৃত হয়েছে।

