দেশে অন্ধত্বের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে এখনো চোখের ছানি অন্যতম প্রধান সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট অন্ধত্বের প্রায় ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশই ছানিজনিত, যেখানে বিশ্বব্যাপী এই হার প্রায় ৫১ শতাংশ। প্রতি বছর দেশে আরও প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন ছানি রোগী যুক্ত হচ্ছেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ।
মঙ্গলবার ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটার্যাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধে বিএসসিআরএসের মহাসচিব ডা. মইন উদ্দিন জানান, দেশে ছানি রোগীর তুলনায় চক্ষু সার্জনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা প্রতি ৮৩৩ জন রোগীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন সার্জন। দেশে প্রায় ২ হাজার ২০০ জন চক্ষু বিশেষজ্ঞ কর্মরত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তিনি আরও জানান, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশুর অন্ধত্ব চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য হলেও তারা এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সময়মতো ছানি শনাক্ত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা গেলে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক বা প্রায় স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য ছানি দায়ী, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি আরও জানান, সরকার চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে, যাতে চোখের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করে। তাই দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হলে কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, ছানি সচেতনতা মাস উপলক্ষে সারা দেশে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক প্রচার, বৈজ্ঞানিক সেমিনার, চক্ষু পরীক্ষা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসসিআরএস।


