শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ চাকধ এলাকায় সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলেছেন ৬৮ বছর বয়সী আজিতন নেছা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার স্বামী মরহুম আব্দুর রহিম মৃধা ২০০৭ সালে ছেলে মনির হোসেন মৃধাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য নিজস্ব জমি বিক্রি করেন। বিদেশে থাকাকালে ছেলে যে অর্থ পাঠাতো এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় দীর্ঘদিন সংসার পরিচালনা করা হতো।
কিন্তু ২০২০ সালে ছেলের বিয়ে ফতেজঙ্গপুরের নুর ইসলাম সরদারের কন্যা ঝর্না আক্তারের সঙ্গে হওয়ায় পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। বিয়ের পর ছেলে ও পুত্রবধূয়ের আচরণ বদলে যায়। তারা মা ও বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে এবং ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
আজিতন নেছা বলেন, ‘স্বামী জীবিত থাকাকালে আমার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তাভাবনা করে বাড়ির ৬ শতাংশ জমি আমার নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে দেন। এরপর থেকেই ছেলে ও পুত্রবধূ সেই জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে মানসিক নির্যাতন করছে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে এবং একাধিকবার আমার বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালবেলায় তার পুত্রবধূ বর্ণা আক্তার তাকে তার নিজ ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে বর্ণা তাকে হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে আজ সকালবেলায় তার দেবর জয়নাল মৃধার ছেলে—সবুজ, সুফিয়ান ও নাইম—ও তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।
তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেন, ‘আমি একজন বৃদ্ধা নারী। যে বাড়িতে আমি জন্মেছি, সেই বাড়িতেই নিরাপদে বাঁচার অধিকার আমার। কিন্তু এখন আমি পুরোপুরি অসহায় ও নিরাপত্তাহীন। আমি চাই প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়টি দেখুন এবং আমাকে সুরক্ষা দিন।’
নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীও জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধ অনেকদিন ধরে চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা কোনো কথা শোনেনি।


