টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বামীর ক্রয় করা বৈধ জমি প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এক অসহায় বিধবা নারী। জমির বৈধ কাগজপত্র ও নামজারি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে দখলমুক্ত করতে না পেরে অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী নাজনীন সুলতানা উপজেলার ভারই গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত এখলাছ উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি জানান, তার স্বামী ১৯৮৪ সালে ভূঞাপুর পৌরসভার রসুনা মৌজায় ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে জমিটি নিয়মিত বর্গা দেওয়া হয় এবং বর্গাচাষিরা সেখানে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
কিন্তু ২০০৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। এ সুযোগে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ও কয়েকজন বর্গাচাষি জোরপূর্বক জমিটি বেদখল করে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
পরে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর একটি আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশের ভিত্তিতে নামজারি মামলা সম্পন্ন করে জমিটি নাজনীন সুলতানার নামে নামজারি করা হয় এবং তিনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
জমির মধ্যে রসুনা মৌজার হাল দাগ ৭৮-এ ৯ শতাংশ এবং হাল দাগ ১০৩-এ ৭ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা সত্ত্বেও এখনো প্রভাবশালী মহলটি জোরপূর্বক জমিটি দখলে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি জমিতে প্রবেশ করতেও তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আমি চরম কষ্টে জীবনযাপন করছি। এই জমিটুকুই ছিল আমার ও আমার সন্তানদের একমাত্র সম্বল। কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলের কারণে আমি আমার জমিতে যেতে পারছি না। তারা জমিতে গেলে আমাকে ও আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’
এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে এবং জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন