বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান প্রতিরোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত জানুয়ারি মাসে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, জব্দকৃত চোরাচালান পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৯৪০ দশমিক ১৭৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১৪ কেজি ৩৩৭ গ্রাম রৌপ্য, ২১ হাজার ২৭১টি শাড়ি, ১১ হাজার ৮৮৩টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৩ হাজার ৬০৫টি তৈরি পোশাক, ২ হাজার ১৮২ মিটার থান কাপড়, ৪ লাখ ৩ হাজার ৪২৭টি কসমেটিকস সামগ্রী এবং ২ হাজার ৫৯৫ পিস ইমিটেশন গহনা।
এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬৯টি আতশবাজি, ১১ হাজার ৪৫১ ঘনফুট কাঠ, ৮ হাজার ৯২৯ কেজি চা পাতা, ২১ হাজার ৬৫৯ কেজি সুপারি, ২৯ হাজার ৪৬০ কেজি কয়লা, ১ হাজার ২৫০ ঘনফুট পাথর, ৩৭১টি মোবাইল ফোন, ৩ হাজার ৭৮৯ পিস মোবাইল যন্ত্রাংশ, ৩০ হাজার ৫৭৫টি চশমাসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও ভোগ্যপণ্য।
খাদ্য ও কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪১ হাজার ৭০৩ কেজি জিরা, ৯ হাজার ৭৮৬ কেজি চিনি, ৮ হাজার ৭৩৫ কেজি পেঁয়াজ, ৭ হাজার ৪০৯ কেজি রসুন, ৮ হাজার ২৪১ প্যাকেট বিভিন্ন ধরনের বীজ, ১৮ হাজার ৭৯৯ কেজি সার এবং ২ হাজার ৭৪৫ প্যাকেট কীটনাশক। পাশাপাশি ৫৩৮ লিটার ডিজেল, ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫১১ পিস চকোলেট ও ৯৭৩টি গরু-মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে ১টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১০টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ১২টি পিকআপ/মহেন্দ্র, ৫টি প্রাইভেটকার/মাইক্রোবাস, ১টি ট্রলি, ২৯টি সিএনজি/ইজিবাইক, ৫২টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল/ভ্যান জব্দ করা হয়।
এদিকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৪টি দেশীয় ও বিদেশি পিস্তল, ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি ম্যাগাজিন, ১৮৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১টি মর্টার সেল, ১টি ককটেল এবং ২৮টি অন্যান্য অস্ত্র।
মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবি জব্দ করেছে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ৭৩০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ১৫৬ বোতল ফেনসিডিল, ৮ হাজার ৯৭০ বোতল বিদেশি মদ, ১৯৮ লিটার বাংলা মদ, ১ হাজার ২১৬ বোতল ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৯২৯ কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ঔষধ।
চলতি মাসে সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচারের অভিযোগে ১৭২ জন চোরাচালানকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ১১৪ জন বাংলাদেশি, ৫ জন ভারতীয় এবং ১৫৯ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন