ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

জবিতে ‘স্মরণে জুলাই’ স্মরণসভা, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার আহ্বান

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং এর গণতান্ত্রিক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘স্মরণে জুলাই, ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায়। এই প্রজন্মের অন্যতম বড় অর্জন হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর চেতনা ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নিয়মিত আলোচনা ও স্মরণমূলক কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু ৩৬ দিনের নয়; এটি দীর্ঘ ১৬–১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শক্তির পতন সম্ভব হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই। এর প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নিয়মিত গবেষণা, আলোচনা ও স্মরণমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাইছ উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা, সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্মরণসভায় অংশ নেন।