ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আকস্মিক প্রয়াণে বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর একটি যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার জীবনাবসান ঘটে, যা ১ মার্চ ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় যেখানে আন্তর্জাতিক মহলে নানা মেরূকরণ দেখা দিচ্ছে, সেখানে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ ও বিনোদন জগতের ব্যক্তিদের মধ্যে এক গভীর শোকের আবহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং ‘বিগ বস ১৯’-এর রানারআপ ফারহানা ভাট এ ঘটনায় নিজের গভীর শোক ও মানসিক বিপর্যয়ের কথা প্রকাশ করেছেন। খামেনিকে একজন আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক ও ‘মসীহ’ (ত্রাতা) হিসেবে অভিহিত করে ফারহানা জানান, এই মৃত্যুর খবরটি শোনার পর থেকে তিনি এতটাই স্তব্ধ যে, সেহরির পর থেকে আর ঘুমাতে পারেননি।
তার মতে, খামেনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে তিনি এক আধ্যাত্মিক আলোকবর্তিকা হিসেবে বেঁচে থাকবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।
প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরের একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফারহানা ভাটের ভাষায়, ‘সব কাশ্মীরি আজ এই বিয়োগান্ত ঘটনায় মর্মাহত।’ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খামেনিকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও উপত্যকার মানুষের সঙ্গে তার যে দীর্ঘদিনের আত্মিক ও মানসিক সম্পর্ক ছিল, ফারহানার বক্তব্যে তার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই হামলা ছিল একটি সুপরিকল্পিত যৌথ অভিযান। খামেনির মৃত্যুর খবরে একদিকে ইরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা ভিড় ও শোকের মাতম দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বের কোনো কোনো অংশে এটি নিয়ে উল্লাসও দেখা গেছে। তবে ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ মসীহ।
ফারহানা ভাটের এই আবেগঘন বার্তা খামেনির প্রতি কাশ্মীরের একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার বিষয়টিকেই পুনর্নিশ্চিত করে।


